এডুকেশন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা এবং স্বপ্নের পিছনে দৌড়ানো

আমি কে?

আমার নাম মো: লুৎফর রহমান (লিটন)। আমি এডুকেশন ফাউন্ডেশনের একজন সহ প্রতিষ্ঠাতা, পরিচালক এবং সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবী। আমি জিয়ানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত পড়াশুনা করি । পঞ্চম শ্রেণীতে এই স্কুল থেকে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পাই । তারপর মর্তুজাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৯ সালের অষ্টম শ্রেণীতে সাধারণ বৃত্তি পাই এবং ২০০২ সালে এস এস সি পাস করি । বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজ থেকে ২০০৪ সালে এইচ এস সি পাশের পরে ভর্তি যুদ্ধে উত্তীর্ণ হয়ে বুয়েটের কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হই । আমি আমাদের ইউনিয়ন থেকে প্রথম বুয়েটে ভর্তি হই । ২০০৯ সালে বুয়েট থেকে পাস করে বাংলাদেশে একটা বেসরকারি কোম্পানিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজ করি । ২০১২ সালে ইউনিভার্সিটি অফ আলাবামা অ্যাট বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে বৃত্তি সহ মাস্টার্স শুরু করি । ২০১৪ সালে মাস্টার্স পাস করে আমেরিকার দুইটা কোম্পানিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে চাকরি করি আড়াই বছরের মতো। ২০১৬ সালে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফর্নিয়া রিভারসাইডে ফেলোশিপ সহ পি এইচ ডি শুরু করি । আমি গবেষণা করছি ব্রেন কম্পিউটার ইন্টারফেস এবং কম্পিউটার সিকিউরিটি ফিল্ডে। ভবিষ্যতে মানুষের মাথার সাথে কম্পিউটারের সংযোগ থাকবে এরকম একটি বিষয় নিয়ে আমি গবেষণা করছি । এখন আমরা যেমন হাত দিয়ে টাইপ করি ভবিষ্যতে আমরা চিন্তা করবো অটোমেটিক্যালি টাইপ হবে। মানুষের ব্রেইনের সিগন্যাল দিয়ে মানুষের পাসওয়ার্ড হ্যাক করা সম্ভব সেটি আমার একটি গবেষণা ছিল । এই গবেষণা বিশটির বেশি ভাষার প্রায় ৬০০ + অনলাইন পত্রিকা প্রকাশ করেছে। বিশ্বের নামকরা কম্পিউটার সিকিউরিটি কনফারেন্স আমার গবেষণাপত্র গৃহীত হয়েছে। আমি ইউরোপের দেশ মালটা এবং আয়ারল্যান্ড গিয়ে আমার গবেষণা উপস্থাপন করেছি । আমি ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে ইউ এস আর্মি রিসার্চ ল্যাবে ভিসিটিং রিসার্চার হিসাবে ৬ মাসের ইন্টার্নশীপ করি ব্রেন কম্পিউটার ইন্টারফেস ফিল্ডে। বর্তমানে আমি পি এইচ ডি চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। এছাড়া আমার বড় পরিচয় হলো আমি এডুকেশন ফাউন্ডেশনের একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা, ডিরেক্টর এবং সক্রিয় ভলান্টিয়ার। আমার সময়ের বড় একটা অংশ কেটে যায় এডুকেশন ফাউন্ডেশনের কাজ করে। বর্তমানে থাকি ক্যালিফর্নিয়া স্টেটের রিভারসাইড শহরে। ৮০০০ মাইল দূরে থেকে দেশের জন্য কিছু করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

এডুকেশন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা

আমাদের জিয়ানগর ইউনিয়ন থেকে আমি প্রথম বুয়েটে ভর্তি হই । বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট কলেজে মোটামুটি ভালো করতাম। ঢাকায় বুয়েটের কোচিংয়ে প্রতি সপ্তাহে মেরিট লিস্টে থাকতাম। তারপরও বিশ্বাস হতো না আমি বুয়েটে চান্স পাবো। এর প্রধান কারণ ছিল আত্মবিশ্বাসহীনতা- আমাদের এলাকা থেকে আমার আগে কেউ বুয়েট, মেডিকেল অথবা ঢাকা ভার্সিটির মতো জায়গায় চান্স পাই নাই যদিও আমার আগে অনেক ভালো ছাত্রছাত্রী ছিল। বুয়েটে ভর্তি হবার পরে আত্মবিশ্বাসহীনতার এই শিকল টুকু ভাঙার চেষ্টা ছিল। যাতে আমার পরে আর কেউ এই অবস্থার মধ্যে না পড়ে সে জন্য বুয়েটে পড়াকালীন সময় থেকেই শুরু করি এলাকার ছাত্র ছাত্রীদের এগিয়ে নেবার কাজ। বুয়েট বন্ধ থাকলে বাড়িতে এসে আমার স্কুলে ক্লাস নিতাম। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে কয়েকজন বন্ধু এবং ছোট ভাইবোনদের নিয়ে এডুকেশন ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু। যাদের ক্লাস নিতাম/দিক নির্দেশনা দিতাম তারাই আজকের এডুকেশন ফাউন্ডেশনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। আলোর মশাল এখন ওদের হাতে। বর্তমান সদস্যদের ৮০% আমাদের প্রতিযোগী ছিল। তাদের হাত ধরে আরো অনেকেই উঠে আসতেছে । ভালো মানুষে ভরে যাবে আমাদের এলাকা এই প্রত্যাশা করি সব সময় । আমি ২০১২ থেকে আমেরিকায় বসবাস করতেছি। প্রতি বছর বাংলাদেশে যাবার ইচ্ছে থাকলেও হয়ে উঠে না। দেশে যেতে না পারলেও মনটা পরে থাকে সেখানে। তাই নিজের অবস্থা থেকে যত টুকু সম্ভব এডুকেশন ফাউন্ডেশনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ধীরে ধীরে চলছি। ২০২৫ সালের দিকে একটি স্কুল বানানোর স্বপ্ন দেখি। গ্রামের ছেলেমেয়েরা যেন মানসম্পূর্ণ শিক্ষা পায় সে জন্য। এখন চলছে সেটার ফাউন্ডেশন তৈরির কাজ। বাড়তেছে এডুকেশন ফাউন্ডেশনের কার্যপরিধি। একটি ইউনিয়ন দিয়ে শুরু হলেও ২০১৯ সালে দুপচাঁচিয়া, আক্কেলপুর এবং ক্ষেতলাল থানার ৫৫ টি স্কুলে আমাদের কার্যক্রম চলছে । ২০১৯ সালে আমরা প্রথম বারের মতো বগুড়া জেলার শাহজানপুর থানায় একটি ব্রাঞ্চ খুলি এবং ১৬ টি স্কুলে আমাদের কার্যক্রম চলছে। ২০১৯ সালের মেধা যাচাই পরীক্ষায় বাছাইকৃত ১২০০ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল।

কারা জড়িত ও টাকার উৎস

হাঁটি হাঁটি পা পা করে এডুকেশন ফাউন্ডেশন নবম বছরে পা রাখলো। বর্তমানে প্রায় ৪৫ জনের মতো স্বেচ্ছাসেবী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সদস্যদের বেশিরভাগ পাবলিক উনিভার্সিটির ছাত্রছাত্রী । ২০১৬ সালের পূর্বে আমাদের ফাউন্ডেশনের যাবতীয় খরচ চলতো ফাউন্ডেশনের সদস্যদের ডোনেশনে। বর্তমানে দেশে এবং দেশের বাইরে প্রায় ৫০ জনের মতো সক্রিয় দাতা মাসিক/বাৎসরিক ভিত্তিতে ফাউন্ডেশনে আর্থিক সহযোগিতা করে আসছেন। বিভিন্ন প্রজেক্টে আমাদের বাৎসরিক খরচ প্রায় ৭ লক্ষ টাকার মতো যার বেশিরভাগ টাকা আসে দাতাদের ডোনেশনে। । আমাদের যাবতীয় কাজের আপডেট ফেইসবুক পেজে দেয়া হয়। ফাউন্ডেশনের সদস্য এবং দাতা ছাড়াও স্কুলের শিক্ষকগণ এবং এলাকার বিদ্যানুরাগী কিছু মানুষের মানসিক সহযোগিতা ছাড়া আমাদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতো না। আফ্রিকার একটা প্রবাদ প্রচলিত আছে, যদি দ্রুত যেতে চাও তবে একা যাও, যদি অনেক দূরে যেতে চাও তবে একসাথে যাও। আমরা সবাই মিলে অনেক দূরে যেতে চাই।

আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

শিক্ষার প্রসারে তথা এলাকার ছাত্রছাত্রীদের এগিয়ে নিতে আমাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা আছে। আমাদের কাজ এলাকায় কিছু ভাল মানুষ তৈরি করা, যারা নিজেরা আবার আমাদের মত একই কাজ করতে থাকবে। মাঝে মাঝে স্কুল-কলেজে দিক নির্দেশনা এবং অনুপ্রেরণামূলক সেমিনার করা , বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা, গরিব ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের এককালীন/ মাসিক বৃত্তির ব্যবস্থা করা আমাদের কাজের অন্তর্ভুক্ত । এডুকেশন ফাউন্ডেশন একটা প্লাটফর্ম যেখানে সব ভালো ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের বিকশিত করতে পারে প্রতিযোগী হিসাবে এবং পরবর্তীতে ফাউন্ডেশনের নেতৃত্বে এসে। ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী কমিটিতে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া বর্তমান ছাত্র ছাত্রী রাখা হয়েছে যাতে করে তারা নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ পায়। আমাদের কাজ শুধু ছেলে মেয়েদের দিকনির্দশনা দিয়ে উঠিয়ে আনা নয়। তারা যেন একই কাজ করে আরো নতুন নতুন ছেলেমেয়েকে উঠিয়ে আনতে পারে এই ধারণা তাদের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের ভালো মানুষ গুলা যদি সামাজিক, পেশাগত, আর্থিক, নৈতিক দিক দিয়ে সাবলম্বী হয়, তবেই আমাদের দেশের সত্যিকারের উন্নয়ন সম্ভব হবে। নিজে ভালো থাকা মানেই ভালো থাকা নয়। সবাইকে নিয়ে ভাল থাকায় হল আসল ভাল থাকা। আমি বিশ্বাস করি আজকে যারা এডুকেশন ফাউন্ডেশনের প্রতিযোগী আগামীতে তারাই এডুকেশন ফাউন্ডেশনের নেতৃত্ব দিবে।

আমাদের ফাউন্ডেশন সম্পর্কে আরো বেশি কিছু জানার ইচ্ছা হলে, অনুগ্রহ করে আমাকে মেইল করবেন অথবা আমাদের টিমকে নম্বর দিলে আমি নিজে কল দিয়ে কথা বলতে পারবো।



Sorry Image can't be loaded

মো : লুৎফর রহমান (লিটন)

সহ-প্রতিষ্ঠাতা, পরিচালক এবং স্বেচ্ছাসেবী, এডুকেশন ফাউন্ডেশন

এবং

ছাত্র, পি এইচ ডি (তৃতীয় বর্ষ),

কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ,

ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফর্নিয়া রিভারসাইড,

রিভারসাইড, ক্যালিফর্নিয়া , যুক্তরাষ্ট্র।

Sorry Image can't be loaded
Email: mrahm011@ucr.edu
Web: www.cs.ucr.edu/~mrahm011 EF: fb.com/EducationFoundationBangladesh